Search

    Select Website Language

    GDPR Compliance

    We use cookies to ensure you get the best experience on our website. By continuing to use our site, you accept our use of cookies, Privacy Policy, and Terms of Service.

    ভারতের দ্বিগুণ আয়তন! সমুদ্রের তলে লুকিয়ে থাকা অষ্টম মহাদেশের খোঁজ পেলেন বিজ্ঞানীরা

    3 weeks ago

    অনন্যা সরকার, কলকাতা: ছোটবেলা থেকে স্কুলের পাঠ্যবই থেকে মানচিত্র সর্বত্রই পড়ানো হয় পৃথিবীর পাঁচ মহাসাগর ও সাত মহাদেশের কথা। কিন্তু জানেন কি পৃথিবীতে অষ্টম একটি মহাদেশও (Eighth Continent) আছে? হ্যাঁ, অজানা এই মহাদেশের অস্তিত্ব রয়েছে, তবে এর সিংহভাগই জলে নিমজ্জিত। ভূতাত্ত্বিকরা নিউজিল্যান্ডের চারপাশের অঞ্চলের জলের ওপর একটি ভূতাত্ত্বিক গবেষণা চালিয়ে আকর্ষণীয় তথ্য উদঘাটন করেছেন। এই অঞ্চলের জলের নীচে একটি মহাদেশের মতো বিশালাকার ভূপৃষ্ঠ রয়েছে, যা আকারে ভারতের প্রায় দ্বিগুণ। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের নীচে অবস্থিত এই মহাদেশটিকে বলা হয় জিল্যান্ডিয়া (Zealandia)। এর আয়তন ভারতের থেকে প্রায় দ্বিগুণ! 

    সমুদ্রের নীচে জিল্যান্ডিয়ার সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

    ভূতাত্ত্বিকরা জানিয়েছেন, নিউজিল্যান্ড, নিউ ক্যালেডোনিয়া এবং নীল জলে ঘেরা কয়েকটি ছোট দ্বীপ আসলে তে রিউ-আ-মাউয়ি (Te Riu-a-Māui) বা জিল্যান্ডিয়া মহাদেশের দৃশ্যমান চূড়ামাত্র। এই জিল্যান্ডিয়া নামটি ১৯৯৫ সালে প্রথম প্রস্তাব করেন ভূ-পদার্থবিদ ব্রুস লুয়েনডিক। ২০১৭ সালে নিক মর্টিমার এবং তার সহকর্মীরা জিএসএ টুডে (GSA Today) ম্যাগাজিনে এর ভূতাত্ত্বিক প্রমাণ তুলে ধরার পর এটি মহাদেশের স্বীকৃতি লাভ করে। ভূতত্ত্বের হিসেবে, সমুদ্রের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা এই মহাদেশটি প্রায় ৪৯ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত, যার মধ্যে ৯৪ শতাংশ অংশই সমুদ্রপৃষ্ঠের নীচে অবস্থিত। বিজ্ঞানীরা জানান, নিউজিল্যান্ড এবং নিউ ক্যালেডোনিয়া হলো এই মহাদেশেরই বৃহত্তম অংশ, যা জলের উপরে মাথা উঁচিয়ে রয়েছে।

    আরও পড়ুন: ৮০ শতাংশ কৃষিজমি ধ্বংস..; ভারত সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করায় শেষের শুরু হল পাকিস্তানের!

    এমন নয় যে ভূতাত্ত্বিকরা ২০১৭ সালেই প্রথমবারের মতো এটি আবিষ্কার করেন। অনেক আগেই থেকেই জাহাজ, স্যাটেলাইট এবং উপকূলীয় দেশগুলো থেকে এই নিমজ্জিত পর্বতমালা ও মালভূমিগুলি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গিয়েছিল। তবে আসল বিষয়টি হল এদের শ্রেণিবিন্যাস। এই সময়েই ভূতাত্ত্বিকরা যুক্তি দেন যে, এই অংশগুলোকে জলে ডুবে থাকা আলাদা আলাদা খণ্ড হিসেবে না দেখে, সমগ্র ৪৯ লক্ষ বর্গ কিলোমিটারের একটি মহাদেশ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।

    সাধারণত আমরা সমুদ্র উপকূলকেই প্রাকৃতিক সীমানা হিসেবে মনে করি, কিন্তু ভূতত্ত্বের বিচারে এটা সঠিক নয়। প্রতিটি মহাদেশেরই উল্লেখযোগ্য অংশ সমুদ্রপৃষ্ঠের নীচে অবস্থান করে। প্রকৃতপক্ষে সমুদ্রপৃষ্ঠের উপরে জেগে থাকা স্থলভাগ নয় মহাদেশ গঠন করে ভূত্বকই। এই মহাসাগরীয় ভূত্বক অত্যন্ত ঘন এবং সাধারণত প্রায় ৭ কিলোমিটার পুরু হয়। জিল্যান্ডিয়ার ভূকম্পীয় পরিমাপ থেকে জানা যায় যে, এর ভূত্বক সাধারণত ১০ থেকে ৩০ কিলোমিটার পুরু। আবার, নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডের কিছু অংশের নীচে এটি ৪০ কিলোমিটারেরও বেশি স্থূল।

    আরও পড়ুন: ইউক্রেন যুদ্ধে ভারতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়কে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করল রাশিয়া

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, জিল্যান্ডিয়া সবসময় জলের তলায় ছিল না। ৮.৫ কোটি বছর আগে এই বিস্তৃত অঞ্চল সমুদ্রপৃষ্ঠের উপরেই জেগে থাকতো। গবেষণায় জানা গেছে, ১০ থেকে ৮.৫ কোটি বছর আগে এই অঞ্চলটি ভূ সম্প্রসারণের  দ্বারা প্রভাবিত হয়। এর ফলে এর ভূত্বক আটার মণ্ডের মতো প্রসারিত হয় এবং মহাদেশের প্রান্তগুলি পাতলা হয়ে যায়। পরবর্তীকালে সমুদ্রতলের প্রসারণের ফলে তাসমান সাগর (Tasman Sea) গঠিত হয় এবং পরবর্তী টেকটোনিক (Tectonic) বা ভূ-গাঠনিক ঘটনা এই মহাদেশের বিভিন্ন অংশকে মুড়ে, ফাটল সৃষ্টি করে এবং কিছু অংশকে উপরে উঠিয়ে ও বাকি অংশকে নীচে নামিয়ে আজকের অবস্থায় নিয়ে এসেছে।

    Click here to Read More
    Previous Article
    এই নথি ছাড়া জীবনেও পাবেন না আয়ুষ্মান ভারত কার্ড, বিপদে পড়ার আগে জানুন
    Next Article
    DA-র সঙ্গে ইনক্রিমেন্টের ভাবনা, কেন্দ্রের সঙ্গে বেতনের ফারাক কমাতে বড় পদক্ষেপ ৭ম বেতন কমিশনের

    Related International Updates:

    Are you sure? You want to delete this comment..! Remove Cancel

    Comments (0)

      Leave a comment