Search

    Select Website Language

    GDPR Compliance

    We use cookies to ensure you get the best experience on our website. By continuing to use our site, you accept our use of cookies, Privacy Policy, and Terms of Service.

    ইউরোপের মাটি থেকে প্রথম বাণিজ্যিক রকেট উৎক্ষেপণ! নজির গড়ল এই দেশ

    1 month ago

    বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইউরোপের (Europe) মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন ইতিহাস তৈরি হল। জার্মান (German) মহাকাশ স্টার্টআপ ইসার এরোস্পেস  শনিবার আর্কটিক নরওয়ের অ্যান্ডোয়া স্পেসপোর্ট থেকে তাদের ‘স্পেকট্রাম’ রকেট সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে। সংস্থার দাবি, ইউরোপের মাটি থেকে কক্ষপথে পৌঁছনো এটিই প্রথম বাণিজ্যিক রকেট ফ্লাইট। উৎক্ষেপণের পর রকেটটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছেছে বলে সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে সংস্থাটি। এই সাফল্যকে ইউরোপের নিজস্ব উৎক্ষেপণ পরিকাঠামো গড়ে তোলার পথে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। নরওয়ের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সিসিলি মাইরসেথও এই ঘটনাকে ইউরোপের উৎক্ষেপণ শিল্পের জন্য বড় সাফল্য বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, অ্যান্ডোয়া থেকে স্যাটেলাইট পাঠানোর সক্ষমতা শুধু নরওয়ের নয়, ইউরোপের নিরাপত্তা ও কৌশলগত সক্ষমতাকেও আরও মজবুত করতে পারে।

    ইউরোপের (Europe) মাটি থেকে প্রথম বাণিজ্যিক রকেট উৎক্ষেপণ জার্মানির

    ‘স্পেকট্রাম’ একটি মনুষ্যবিহীন রকেট, যার নকশা করা হয়েছে ছোট ও মাঝারি আকারের স্যাটেলাইট এবং অন্যান্য কার্গো মহাকাশে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। এবারের অভিযানে মোট পাঁচটি ছোট স্যাটেলাইট পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি উড্ডয়নের সময় কিছু নতুন প্রযুক্তি পরীক্ষা করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল। তবে এই সাফল্য ইসার এরোস্পেসের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সংস্থাটির দ্বিতীয় উৎক্ষেপণ প্রচেষ্টা। প্রায় ১৮ মাস আগে প্রথম রকেট উৎক্ষেপণের পর কিছুক্ষণের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সমুদ্রে পড়ে বিস্ফোরিত হয়েছিল। সেই ঘটনায় কেউ আহত হননি। সংস্থার পক্ষ থেকে সেই অভিযানকে পুরোপুরি ব্যর্থ বলা হয়নি। বরং প্রথম প্রচেষ্টায় পাওয়া তথ্য ও প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতাকে পরবর্তী রকেটের উন্নতিতে কাজে লাগানো হয়েছে। এবার পেলোড-সহ স্পেকট্রামের সফল উড্ডয়ন সেই অভিজ্ঞতারই ফল বলে মনে করা হচ্ছে (Europe)।

    আরও পড়ুন: আমেঠিতে তৈরি AK-203 রাইফেলের গোলাবারুদ দেবে আদানির সংস্থা! অস্ত্রশক্তিতে আরও আত্মনির্ভর ভারত

    ইউরোপের জন্য এই সাফল্যের কৌশলগত গুরুত্বও কম নয়। বর্তমানে মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠানোর ক্ষেত্রে ইউরোপকে বিভিন্ন সময় অন্য দেশের উৎক্ষেপণ পরিকাঠামোর উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমেরিকার নীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনার মধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলি নিজেদের প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত স্বাধীনতা বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে। নিজস্ব রকেট, উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং স্যাটেলাইট পাঠানোর ব্যবস্থা থাকলে বাইরের দেশের উপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ মার্চ মাসে ইসার এরোস্পেসের উৎক্ষেপণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেছিলেন। সেই সময় থেকেই ইউরোপের নিজস্ব বাণিজ্যিক মহাকাশ পরিকাঠামো তৈরির গুরুত্ব আরও সামনে আসে।

    অবশ্য ইউরোপের উৎক্ষেপণ বাজারে প্রতিযোগিতা নতুন নয়। আমেরিকার স্পেসএক্স ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিক রকেট উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে এয়ারবাস ও স্যাফরানের যৌথ উদ্যোগ আরিয়ান গ্রুপ ফরাসি গায়ানার মহাকাশবন্দর থেকে রকেট উৎক্ষেপণ করে। এবার ইউরোপের উত্তরাঞ্চলেও নতুন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র গড়ে উঠছে। নরওয়ের অ্যান্ডোয়ার পাশাপাশি সুইডেনের এসরেঞ্জ স্পেস সেন্টার এবং স্কটল্যান্ডের শেটল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের স্যাক্সাভোর্ড স্পেসপোর্টও নিজেদের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। লক্ষ্য একটাই—ইউরোপের মাটিতে আরও বেশি সংখ্যক উৎক্ষেপণের সুযোগ তৈরি করা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা স্যাটেলাইট বাজারে নিজেদের জায়গা শক্ত করা।

    This country launched the first commercial rocket from Europe

    আরও পড়ুন:এশিয়া কাপে ভারতের কাছে শোচনীয় হার! তারপরেই যা বললেন পাকিস্তানের কোচ, হাসির রোল নেটদুনিয়ায়

    এই পরিকল্পনাকে এগিয়ে নিতে ইসার এরোস্পেসও বড় বিনিয়োগ পাচ্ছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি বা ESA-এর কাছ থেকে তারা প্রায় ২০০ মিলিয়ন ইউরো অর্থাৎ প্রায় ২৩২ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা পেয়েছে। এই অর্থ নতুন প্রজন্মের রকেট তৈরি, পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ এবং উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের পরিকাঠামো সম্প্রসারণে কাজে লাগানো হবে। শুধু ইউরোপেই নয়, কানাডাতেও দ্বিতীয় একটি উৎক্ষেপণ কেন্দ্র তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি। ফলে স্পেকট্রামের এই সফল অভিযানকে শুধু একটি রকেট উৎক্ষেপণের সাফল্য হিসেবে নয়, বরং বাণিজ্যিক মহাকাশ ক্ষেত্রে জার্মানি ও ইউরোপের (Europe) উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

    Click here to Read More
    Previous Article
    উত্তরবঙ্গ ভ্রমণ হবে আরও আরামদায়ক, শুরু হল কলকাতা-লাটাগুড়ি বাস পরিষেবা
    Next Article
    ফুটপাত দখলে, আমতলা রোডকে যানজট মুক্ত করতে পথ অবরোধ নাগরিক অধিকার রক্ষা সমিতির

    Related International Updates:

    Are you sure? You want to delete this comment..! Remove Cancel

    Comments (0)

      Leave a comment